অধস্তন প্রকৌশলীর গলায় পা দিয়ে নির্যাতন - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

অধস্তন প্রকৌশলীর গলায় পা দিয়ে নির্যাতন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজবাড়ী : রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রনির গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে। এসময় অপর এক কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিবৃত্ত করেন এবং নির্যাতনের শিকার কর্মকর্তাকে কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন।

মঙ্গলবার রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৪ নভেম্বর) প্রকৌশলী রনি ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ পাউবোর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পাউবো সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উপসচিব (প্রশাসন) সৈয়দ মাহবুবুল হকের সই করা এ-সংক্রান্ত দফতরাদেশে বলা হয়, অসদাচরণ ও চাকরি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আবদুল আহাদকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মহাপরিচালকের কাছে দেয়া অভিযোগে রনি বলেছেন, মঙ্গলবার বেলা একটার সময় তাকে ও গোয়ালন্দ পশুর শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল সরদারকে কিছু নথিপত্রসহ দাফতরিক কাজে প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে যেতে বলেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ। দফতরের একটি গাড়ি নিয়ে যেতে বললেও ওই দিন তারা কোনো গাড়ি পাননি। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হওয়ায় এগুলো নিয়ে বাসে না গিয়ে পরদিন (বুধবার) দফতরের গাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

বিষয়টি জানতে পেরে রনিকে সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের মাধ্যমে মঙ্গলবার বিকেলে ডেকে পাঠান। রনি মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে যান। সেখানে যাওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ ‘তুই-তোকারি’ করে রনিকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। এরপর বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরেন এবং গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে জবাই করার হুমকি দেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন রনি।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদের কক্ষে আগে থেকেই অবস্থান করছেন রাজবাড়ী পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম। এক পর্যায়ে ওই কক্ষে প্রবেশ করে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রনি চেয়ারে বসেন। কথা বলার একপর্যায়ে রনির ওপর খেপে যান নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি নিজের চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে গলা চেপে ধরেন রনির এবং ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিবৃত্ত করেন আশরাফুল আলম। এরপর আবদুল আহাদ নিজের চেয়ারের কাছে ফেরত এসে একটি ‘অ্যান্টি কাটার’ হাতে নিয়ে শাসাতে থাকেন রনিকে। এক পর্যায়ে রনিকে ওই কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন আশরাফুল আলম।

এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদের দুটি মুঠোফোন নম্বরে বুধবার চারবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও তার জবাব পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email