শীতকালে গুড় খাওয়ার উপকারিতা - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

শীতকালে গুড় খাওয়ার উপকারিতা

ডেস্ক রিপোর্ট : শীত মৌসুমে গুড়ের মিষ্টি গন্ধ আর স্বাদ গুড়প্রেমীদের মন কেড়ে নেয়। শীতের এ সময় পিঠা-পায়েসে গুড়ের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় মিষ্টি গুড়। অনেক দেশে পামের রস থেকেও গুড় তৈরি করা হয়। রস সংগ্রহ করার পরে তা বড় পাত্রে সংরক্ষণ করা হয় এবং তা কিছুক্ষণ স্থিরভাবে রেখে দিয়ে জ্বাল দেয়া হয়। এই রস আগুনের তাপে ফুটে ওঠে এবং গুড়ে পরিণত হয়। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক মিষ্টি তাই এর আছে নানা উপকারিতা।

চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। গরমের সময়ে শসা ও তরমুজ যেমন শরীর শীতল রাখে, তেমনি শীতে শরীরের জন্য গুড় খুবই উপকারী। গুড় সাধারণ যে কোনো অসুখ থেকে রক্ষা করতে শরীরকে শক্তি জোগায়। শীতকালে শরীরের উপর গুড়ের কী প্রভাব পড়ে? সে কথা জেনে রাখা জরুরি। শীতকালে গুড় খেলে নানা ভাবে শরীরের যত্ন হয়। দূরে রাখা যায় বেশ কিছু রোগ।

শীতে গুড় খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। গুড় খেলে শরীর সুস্থ থাকে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

খেজুরের গুড়ে থাকে নানা ধরনের খনিজ পদার্থ। সঙ্গে প্রোটিন আর ভিটামিনও থাকে। ফলে এই গুড় নিয়ম করে খেলে শীতকালে কাজের শক্তি বাড়ে। হজমের সমস্যা দূর হয়। কমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও।

গুড় তাপ উৎপাদন করে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। এতে আছে উচ্চ মানের ক্যালোরিফিক, যা শরীর উষ্ণ রাখে এবং শক্তি যোগায়।

গুড়ে থাকে লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম এবং পটাশিয়াম। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও সংক্রমণ দূরে রাখে।

সর্দি-কাশি ও সাধারণ ঠাণ্ডার কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে গুড়। ক্ষতিকর অনুজীব বৃদ্ধি হ্রাস করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত গুড় খেলে কমতে পারে মা‌ইগ্রেনের সমস্যা।

শীতের সময়ে অনেকেরই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সমস্যা হয়। নিয়ম করে গুড় খাওয়া গেলে সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে।

খেজুরের গুড়ে আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। শীতে যখন শুষ্ক হয়ে যায় শরীর, তখন এই গুড় আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

রক্তশোধনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেই গুড়। যার ফলে নিয়মিত গুড় খেলে বিভিন্ন রোগবিসুখ থেকে দূরে থাকা যায়। শ্বাসনালী, ফুসফুস, অন্ত্র, খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীকে খুব ভালভাবে পরিশুদ্ধ করে গুড়।

গুড়ে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ফোলেট থাকে। যা রক্তাল্পতার হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। গুড়ে ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকায় তা অন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ফলে পেট ভাল থাকে।

গুড় শরীর থেকে অবাঞ্ছিত উপাদান দূর করে পাকস্থলী, অন্ত্র, ফুসফুস ও খাদ্যনালি সুস্থ রাখে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও গুড়ের কোনও তুলনা নেই। কারণ, গুড় বিভিন্ন পাচক রসের ক্ষরণকে সক্রিয় করে বাওয়েল মুভমেন্টকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। বলাই বাহুল্য, শীতে কমবেশি সবাইকে ভুগতে হয় এই সমস্যায়। তাই নির্ভয়ে গুড় খান।

জেনে রাখবেন, খাওয়ার পর একটুখানি গুড় যদি মুখে দেন, তাহলে হজম প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়। যা সামগ্রিকভাবেই শরীরকে সুস্থ রাখে। লিভারকে ডিটক্স করতেও গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। লিভারের টক্সিনকে শরীর থেকে বার করে দেয় এই অল্প একটু গুড়।

গুড়ে থাকে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রেসপিরেটরি সমস্যায় গুড় খুব কাজে দেয়। এমনকি, গাঁটে ব্যথা কমাতেও গুড় বন্ধুর মতো এগিয়ে আসে।

এনার্জি বাড়িয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে গুড়ের জবাব নেই। পটাশিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকার ফলে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে গুড়। আর এই মেটাবলিজম বাড়ার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কফ, গলাব্যথা, ফোলা বা খুসখুস করা দূর করতে সাহায্য করে গুড়। এ ছাড়া শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা যেমন-কফ, বা বুকে কফ জমাট বাঁধা, রক্ত প্রবাহে সমস্যা ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে।

Print Friendly, PDF & Email