কূটনৈতিক এলাকায় হামলার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

কূটনৈতিক এলাকায় হামলার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা : রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) একটি গাড়িতে হামলার পর ওই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসি। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দেলোয়ার নামের ওই জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি গুলশানের থাইল্যান্ড অ্যাম্বাসি সংলগ্ন সড়কে একটি মাইক্রোবাসে হামলা চালায়। ওই মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-৫৬-৫৪২৪) ছিল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এআইইউবি’র। গাড়িতে এ সময় এআইইউবির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নজরুল ইসলাম ও জুনিয়র এক্সিকিউটিভ নাজমুল হাসান ছিলেন। সামান্য আহত হলেও তাৎক্ষণিক তারা স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় সেই জঙ্গিকে আটক করেন। পরে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান তাকে হেফাজতে নিয়ে তার ব্যাগ তল্লাশি করে। পুলিশ তার ব্যাগ থেকে তাৎক্ষণিক দেড় লিটার তরল পদার্থ, দুটি লোহার তৈরি ছুরি ও জাপানি নাগরিকত্বের একটি কার্ড উদ্ধার করে।

যোগাযোগ করা হলে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বলেন, গাড়িতে পেট্রোলসহ একটি বোতল ঢিল মেরেছিল। পরে গাড়িতে থাকা লোকজনই তাকে আটক করে। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। পুরো বিষয়টি এখন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট হ্যান্ডেল করছে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা এআইইউবির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে কথা বলতে পুলিশ তাদের নিষেধ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খবর পেয়ে জঙ্গি প্রতিরোধে গঠিত বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার জানিয়েছে, তার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন জার্মিত্তা এলাকায়। তার বাবার নাম শাহাজুদ্দিন। সে দীর্ঘদিন জাপানে ছিল। বছর খানেক আগে সে দেশে ফিরে এসে মানিকগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিল। আটকের পর দেলোয়ারকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতেও অভিযান চালায় পুলিশ। তার বাসা থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেলোয়ার জানিয়েছে, সে আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। অনলাইনে বিভিন্ন অডিও-ভিডিও দেখে এবং শুনে সে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। পরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে সে একজন বিদেশি নাগরিকের ওপর হামলার জন্য গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় গিয়েছিল। তার টার্গেট ছিল মার্কিন নাগরিক। এজন্য এআইইউবির গাড়ি দেখে এটাকে আমেরিকান মনে করে সে পেট্রোলবোমা হামলা চালিয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি দেলোয়ার জানিয়েছে, সারা বিশ্বে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করার পরও বাংলাদেশের সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, এজন্য সে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

জানা গেছে, আটকের পর দেলোয়ারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা (নং ২০) দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এস আই আমির হোসেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে জঙ্গি দেলোয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-স্টাফদের ওপর বড় পরিসরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানির মাধ্যমে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, জঙ্গি দেলোয়ার এলোমেলো তথ্য দিয়েছে। তার মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও মনে হয়েছে। তবে সে গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে এসব অভিনয় করছে কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে সতর্কতার সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email