গ্রাহকের টাকায় রাসেল দম্পতির ‘বিলাসী জীবন’ - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

গ্রাহকের টাকায় রাসেল দম্পতির ‘বিলাসী জীবন’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : মাথার ওপর কোটি কোটি টাকা দেনার ভার থাকলেও বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী; প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। গ্রাহকদের টাকায় নিজেরা বিলাসবহুল ‘রেঞ্জরোভার’ ও ‘অডি’ গাড়িতে চলাফেরা করতেন। প্রতিদিনই তাদের আনাগোনা ছিলো রাজধানীর অভিজাত সব হোটেল-মোটেলে।

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৪০৩ কোটি টাকা দেনা থাকা ইভ্যালির দুই কর্ণধারকে নেয়া হয় র‌্যাব সদরদফতরে। সেখানেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলায় তাদেরকে হস্তান্তর করবে র‌্যাব।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে আরিফ বাকের নামে একজন ভুক্তভোগী ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের নামে গুলশান থানায় মামলা করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইভ্যালির অনলাইন প্লাটফর্মে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পাননি। নিরুপায় হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানা মামলা করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইভ্যালির গ্রাহকের বিনিয়োগের টাকায় দেড় কোটি টাকার বেশি দামে বিলাসবহুল একটি ‘রেঞ্জরোভার’ গাড়ি কেনেন। যেটা রাসেল নিজেই চড়তেন। একই সমমূল্যের ‘অডি’ গাড়িতে চড়েন তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন। মোহাম্মদপুরের যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, সেই বাড়ির পাঁচতলায় ভাড়ায় থাকতেন এই দম্পতি। তবে রাজধানীতে ফ্ল্যাট কিনেছেন কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনো জানাননি। প্রতিদিনই রাজধানীর অভিজাত হোটেলে আনাগোনা ছিলো রাসেলের। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে অর্থ জমা রেখেছেন। আবার অনেক জায়গাতে জমিও কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দেনার পরিমাণ ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। ৩৩৮ কোটি টাকাই কোম্পানির কাছে নেই। গত ২৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আরার আদালতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন একজন গ্রাহক।

মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নাম উল্লেখ করা হয়। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাসিন্দা মো. রাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। বর্তমানে মামলটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় বেশ অগ্রগতি আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

Print Friendly, PDF & Email