১০-১৫ শতাংশ কমেছে কাঁচা চামড়ার সংগ্রহ - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

১০-১৫ শতাংশ কমেছে কাঁচা চামড়ার সংগ্রহ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : এবার ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কিছুটা কম হয়েছে রাজধানীর পোস্তায়। আড়তদারদের দাবি গত বছরের তুলনায় এবার কমছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এরজন্য রাজধানীর উপকণ্ঠের অবৈধ আড়তকে দুষছেন তারা।

প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সারাদেশে ১ থেকে সোয়া ১ কোটি পশু কোরবানি হতো। তবে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে মানুষের চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি আর্থিক সংকটের কারণে এবার কিছুটা কমেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর কোরবানির ঈদে সারাদেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। এরমধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

কোরবানি কমে যাওয়ার কারণে কাঁচা চামড়ার যোগানও কমেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় আড়ত পোস্তায়। এর বাইরে লকডাউনের কারণে সময়মত লবন দিতে না পারায় নষ্ট হয়েছে অনেক চামড়া। সঙ্গে লবনেরও সংকট ছিল। সব কিছু মিলিয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি আড়তদাররা। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত আছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা বলেছেন কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আমাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম পেয়েছি।

কাঁচা চামড়া সংরক্ষণকারী আড়তদারদের সংগঠন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, করোনাকালের কোরবানির তুলনায় চামড়ার যোগান খুব ছিল না। তবে গেল ঈদের চেয়ে ১০ বা ১৫ শতাংশ কম।

পোস্তার কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, লবন সংকটের কারণে গতবছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ কম কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে। আবার মহামারি করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অনেকেই কোরবানি দেননি। কোরবানিও কম হয়েছে এই বছর।

হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, গতবার যে পরিমাণ চামড়া এসেছিল, এবারও তাই এসেছে। সার্বিকভাবে সারাদেশের হিসাব করলে গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কোরবানি কম হয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, কোরবানি কত হয়েছে তার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে আনুমানিক বলতে পারি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কোরবানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজধানীর আমিন বাজার ও হেমায়েতপুরে বেশ কয়েকটি অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে। পোস্তায় চামড়া কম আসার এটিও একটি বড় কারণ।

টিপু সুলতান আরও বলেন, হেমায়েতপুরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি অবৈধ আড়ত গড়ে উঠেছে। যার একটিও পরিবেশবান্ধব না।

অভিযোগ উঠেছে এসব অবৈধ আড়তে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের কাজ করানো হচ্ছে। এতে চামড়ার মত জাতীয় সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email