দুই দশকেও হয়নি মডেল তিন্নি হত্যাকাণ্ডের বিচার - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

দুই দশকেও হয়নি মডেল তিন্নি হত্যাকাণ্ডের বিচার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : প্রায় ১৯ বছর আগে মডেল কন্যা সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। মামলাটির প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির কোনো হদিস না পাওয়ায় ঝুলে আছে বিচারকাজ। ইন্টারপোল পরপর তিন বার অভির ব্যাপারে রেড নোটিশ জারি করলেও সংস্থাটি বাংলাদেশ পুলিশকে তার সম্পর্কে জানাতে পারেনি কোনো তথ্য। আলোচিত মামলাটির বিচারকাজ চলছে ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতে। মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। বিচারকাজ কবে শেষ হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেন না।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মডেল তিন্নির লাশ পাওয়া যায়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরানীগঞ্জ বর্তমান মডেল থানার তৎকালীন এএসআই মো. সফি উদ্দিন। এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার তৎকালীন এসআই মো. কাইয়ুম আলী সরদার। এরপর নিহত তিন্নির লাশের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে সুজন নামে নিহতের এক আত্মীয় লাশটি মডেলকন্যা তিন্নির বলে শনাক্ত করেন। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার সিআইডিতে ন্যস্ত হয়। আর তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক ফজলুর রহমান।

এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তিন্নি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় ২২টি আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ গোলাম ফারুক অভি অভিযুক্ত হলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। আর অভির অনুপস্থিতিতেই ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হত্যা ও মরদেহ গুমসংক্রান্ত মামলায় অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল সর্বশেষ তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর একই বছরের ২৫ আগস্ট মামলাটির কার্যক্রম উচ্চ আদালত স্থগিত করেন। নিহত তিন্নির বাবা বিদেশ থেকে এসে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে মামলাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আবার বিদেশে চলে গেছেন।

গোলাম ফারুক অভি পলাতক থাকা অবস্থায় উচ্চ আদালতে আবেদনের মাধ্যমে মামলাটি স্থগিত করা হয়েছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যদিও এসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র আদালতে না যাওয়ায় মামলাটির কার্যক্রম অনেকটা থমকে গেছে।

এ ব্যাপারে ঢাকার সপ্তম জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কামাল হোসেন বলেন, ‘এখন কোর্ট বন্ধ থাকায় আমি মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না।’

 

কে এই অভি, আছেন কোথায়?
গোলাম ফারুক অভির উত্থান ঘটে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। এসএসসি এবং এইচএসসিতে বোর্ড পর্যায়ে মেধার সাক্ষর রাখেন। নব্বইয়ের গণআন্দোলন ঠেকাতে এরশাদের নেক নজর পান অভি। ওই সময় অপহরণ ও মুক্তিপণ এবং চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে নব্বইয়ের গণআন্দোলনের চরম পর্যায়ে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে তাকে কারাগার থেকে ছাড়া হয়। আর ছাড়া পেয়েই পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। এত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের হাত ধরে ১৯৯৬ সালে বরিশাল-২ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

চাঞ্চল্যকর তিন্নি হত্যা মামলার ফেরারি আসামি গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও তার কোনো সন্ধান বা কোনো ধরনের তথ্য ইন্টারপোল বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তরকে জানাতে পারেনি।

 

Print Friendly, PDF & Email