‘এক নেতার এক পদ’ নীতিতে পিছিয়ে আওয়ামী লীগ - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

‘এক নেতার এক পদ’ নীতিতে পিছিয়ে আওয়ামী লীগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতির ব্যত্যয় বাড়ছেই। বর্তমানে দলটিতে ‘এক নেতা তিন পদেও’ দায়িত্ব পালন করছেন। আবার কেউ কেউ রয়েছেন একাধিক পদে। দলটির উপকমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় এমন চিত্রই উঠে এসেছে। দলীয় সূত্রের খবর, উপকমিটি করতে গিয়ে এমনকি দলীয় প্রধানের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উপকমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপকমিটি, এরপর শিল্প ও বাণিজ্য, যুব ও ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বন ও পরিবেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আইন, কৃষি ও সমবায়, মহিলা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক, বন ও পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিটিগুলোর সদস্য সংখ্যাও যে যার মত করে বসিয়েছেন। কোনও কোনও কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ৩৫, ৪০, ৫০,৭০ থেকে ৮০ জন্যও রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ একাই রয়েছেন তিন পদে। বর্তমানে তিনি দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সচিব, আবার জায়গায় করে নিয়েছেন শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটিতেও। এছাড়া শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির ৬ নম্বর সদস্যও তিনি।

গোলাপের মত একাধিক পদধারীরাও জায়গায় পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের উপকমিটিগুলোতে। সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রেসিডিয়াম সদস্য, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এমনকি এক উপকমিটির সদস্যসচিবকে আরেক উপকমিটির সদস্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপকমিটিগুলোতে জায়গা করে নিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী, রুপালি পর্দার নায়ক-নায়িকা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সেক্টরের লোকজন।

জানা যায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা কোনও সহযোগী সংগঠন কিংবা দলীয় পদে নেই তাদেরকে উপকমিটিতে রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখানে দলীয় সভাপতির নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিদের উপকমিটিতে রাখতে বলা হয়েছে। যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দেশের জন্য অবদান রাখছেন।

এক ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবে না বলে এরইমধ্যে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ১৯ নভেম্বর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ একাধিক পদে থাকতে পারবে না। মহানগরসহ সহযোগী সংগঠনগুলোতেও যদি কোনও ব্যক্তি সদস্য পদেও থাকে তিনি সাব-কমিটিতে থাকতে পারবেন না।’

ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটেনি উপকমিটিগুলোতে। অনুমোদিত উপকমিটিগুলোতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি একাধিক পদে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহও রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটিতে, আবার তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকমিটির ১ নম্বর সদস্যও।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক লীগ। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সমির চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতিও রয়েছেন উপকমিটিতে, তারা উভয়েই কৃষি ও সমবায় উপকমিটির সদস্য। যথাক্রমে ৪ ও ৫ নম্বরে রাখা হয়েছে তাদের।

আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলে ফাহিমও রয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটিতে। তিনি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটি ৫ নম্বর সদস্য। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশনঅব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)-এর সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপকমিটিতে জায়গা পেয়েছেন ধানমন্ডি থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মিলি।

নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে ‘এক পদে একাধিক নেতা’র বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘উপকমিটি করার ক্ষেত্রে কোনও বিতর্কিত ব্যক্তিকে ঠাঁই দেয়া হচ্ছে না। প্রথমে কমিটির সদস্য সংখ্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। ৪০ থেকে ৫০ জন। তবে এটা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।’

Print Friendly, PDF & Email