আমদানি করা গাড়ি থেকে শুল্ক আদায়ের সিদ্ধান্ত বারভিডার - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

আমদানি করা গাড়ি থেকে শুল্ক আদায়ের সিদ্ধান্ত বারভিডার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন (বারভিডা) তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশের দুই বন্দর দিয়ে আমদানি করা প্রতিটি গাড়ি থেকে ‘বারভিডা শুল্ক’ নামে এক হাজার টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সে লক্ষে সংগঠনের নিজেদের সদস্যের কাছ থেকে প্রতিটি গাড়ি আমদানি বাবদ এক হাজার টাকা ‘বারভিডা শুল্ক’ আদায় করে দিতে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরকে বিভিন্ন সময় প্রস্তাব পাঠায় বারভিডা। মংলা কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে শুল্ক আদায় করতে গেলেই শুরু হয় আইনি জটিলতা। এই ধরণের চার্জ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

বারভিডার পাঠানো প্রস্তাব থেকে জানা যায়, বন্দর দিয়ে দেশে আমদানি করা প্রতিটি গাড়ি সরকারি সকল রাজস্ব ও শুল্ক পরিশোধ করার পর অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ‘বারভিডা শুল্ক’ আদায় করবে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই এক হাজার টাকা থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ একশ টাকা সার্ভিস চার্জ রেখে বাকি নয়শ টাকা বারভিডার ব্যাংক একাউন্টে জমা দিবে।

এমন প্রস্তাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো সম্মতি না দিলেও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজি হয়ে যায়। মংলা বন্দরে সেই চার্জ আদায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে গত ৫ নভেম্বর। তবে উদ্বোধনের পরেই শুরু হয় বিভিন্ন গাড়ি আমদানিকারক ও গাড়ি ডিলারের আপত্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারভিডার একজন সিনিয়র সদস্য যমুনা নিউজকে জানান, আমরা প্রতি বছর বারভিডার সদস্য পদ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেই। আর গাড়ি আমদানির সরকারি সব ধরনের চার্জ পরিশোধ করার পরেই গাড়ি বন্দর থেকে বের হতে পারে। তাহলে ওই অতিরিক্ত এক হাজার টাকা শুল্ক কেন দিতে হবে! বারভিডা কোন বিশেষ কাজে বা কোন ঘোষণা দিয়ে সদস্যদের থেকে সম্মতি দিয়ে কোন নির্দিষ্ট সময়ে বা কোন নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা কাজে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু প্রতিটি গাড়ির জন্য এক হাজার টাকা চার্জ নির্ধারণ করা এবং সরকারি সংস্থা দিয়ে সেই অর্থ আদায় করা কোনো আইনে নেই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমান উল্লাহ যমুনা নিউজকে বলেন, কোম্পানি এক্ট, ১৯৯৪ এবং ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিনেন্স ১৯৭৬ অনুযায়ী কোন সংগঠন তাদের সদস্যদের কাছ থেকে ‘শুল্ক’ আদায় করতে পারে না। এছাড়া পোর্ট এক্ট ১৯০৮ এবং মংলা পোর্ট অর্ডিনেন্স ১৯৭৬ অনুযায়ী সরকারি সংস্থা বেসরকারি সংস্থার পক্ষ হয়ে আলাদা কোন শুল্ক আদায় করতে পারে না। তাই ‘বারভিডা শুল্ক’ নামে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আর বারভিডাকে এই ধরনের সুবিধা দেয়া মানে বৈষম্য সৃষ্টি করা। কারণ বন্দরের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারও এমন চার্জ আদায়ের আবদার করে বসতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক যমুনা নিউজকে বলেন, বারভিডা অনেক আগে একবার এ ধরনের চার্জ আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল তারা নিজেদের সদস্যদের সম্মতি নিয়ে বন্দরের ভেতরে একটি বুথ বসিয়ে ওই চার্জ আদায় করতে পারে। বন্দর শুধু তার জায়গার ভাড়া নেবে। কিন্তু সম্প্রতি মংলা পোর্ট তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাওয়ায় বারভিডা আবার চট্টগ্রাম বন্দরকে প্রস্তাব পাঠায়। সেটি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কোন আইনি জটিলতায় যেতে চায় না বলে জানান সচিব ওমর ফারুক।

‘বারভিডা শুল্ক’ আদায় প্রসঙ্গে মংলা বন্দরের পরিবহন শাখা সূত্র জানায়, বারভিডা তাদের কাজে মংলা পোর্ট থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন। বন্দরের স্টেকহোল্ডার হিসিবে সেই সহযোগিতাই করা হচ্ছে। বন্দরের ফান্ডে ‘বারভিডা শুল্ক’ জমা হচ্ছে না। তাদের একাউন্টেই তাদের সদস্যদের অর্থ জমা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email