পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ওসমানী - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ওসমানী

মো. জিয়ারত হোসেন খান : ১৯৪৭ সালের ৭ই অক্টোবর পাকিস্তানে আগমনের দিনই তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদে উন্নীত হন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বপ্রধান কার্যালয়ে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল শাখায় ফাস্ট গ্রেড স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে বিভিন্ন বিভাগের কার্যনীতির সমন্বয়, পরিকল্পনা ও অধীনস্থ বিভাগের অফিসার ও অন্যান্য স্তরের আমলাদের নিয়োগ, পদোন্নতি, সংখ্যা নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে তিনি স্টাফ কলেজে শিক্ষা লাভ করার আগেই নিযুক্ত হয়ে এবং মাত্র ৭ বৎসর চাকুরী জীবনের মধ্যে বহু সিনিয়র অফিসারকে ডিঙ্গিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন।
এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কিছুকাল পর কোয়েটা স্টাফ কলেজে ১৯৪৮ সনের স্টাফ কোর্সে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, সদ্য স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিদেশের কোন স্টাফ কলেজে গিয়ে প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা তখন ছিলনা। তাঁকে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জন্য ইতোপূর্বে রক্ষিত সম্পদ বন্টনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি অতিশয় দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে সামরিক বিভাগে পি.এস.সি ডিগ্রী লাভ করেন। কোয়েটা কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ অবিভক্ত ভারতে ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনী অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। প্রথম প্রথম এ কলেজে কেবল ব্রিটিশ অফিসারদের পাঠানো হতো। পরে ভারতীয়দের জন্য এর দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। অনেক বিখ্যাত সেনানায়ক এ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিল্ড মার্শাল মন্টগোমারি, ফিল্ড মার্শাল অচিনলেক, জেনারেল কারিয়াপ্পা, জেনারেল আইয়ুব খান, জেনারেল মানেক শ প্রমুখ। ওসমানী এ সময় হতে বিভিন্ন ব্রিগেডের ট্রেনিং টিমের ভারপ্রাপ্ত অফিসার নিযুক্ত হন এবং বিভিন্ন সেনাদলকে যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল শিক্ষাদানে তৎসংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা, যুদ্ধ প্রস্তÍতি, পরিচালনা সম্পর্কে উন্নত প্রণালী অবহিত করান।
স্টাফ কলেজ থেকে পি.এস.সি ডিগ্রী লাভের পর তিনি ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর তদানীন্তন চিফ অভ দি জেনারেল স্টাফ এর জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল রেজিন্ডে হার্টন এর জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-১ পদে নিযুক্ত হন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি এসিসষ্ট্যান্ট এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল পদে অফিসার পদ প্রাথী নির্বাচন সম্পর্কীয় বিষয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। এই পদে থাকাকালীন সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড (আই এস,এস,বি) এ যাওয়ার আগে শিক্ষা সংক্রাস্ত যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য তিনি তিনটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষার প্রচলন করেন। এটা যদিও বিশ^যুদ্ধ পূর্বকালের বৃটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার নির্বাচনের জন্য ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাইতে সহজ সাধ্য ছিল। এই পরীক্ষা পদ্ধতি প্রচলনের ফলে পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রটি ও কমিশন প্রার্থীদের শিক্ষা সন্বন্ধীয় দুর্বলতা ধরা পড়ে।
পরবর্তীকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল স্যার ডাগলাস গ্রেসী কর্তৃক একটি কমিটির চেয়ারম্যান রূপে কমিশন প্রার্থীদের কতিপয় দলের ফলাফলের প্রেক্ষিতে তাদের শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও নেতৃত্বের জন্য অতি প্রয়োজনীয় মৌলিক গুণাবলীর নুন্যতম একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ তিনি প্রস্তুত করেন এবং এই সম্পর্কে সংশোধনী ব্যবস্থা ও অন্যান্য বিশদ ব্যাখ্যাসহ কমিটির প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের নিকট পাঠান। এ বিশ্লেষণে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের বিশেষ সুপারিশ ছিল। এ দায়িত্ব পালনের এক বৎসর পরে তিনি সৈন্যদলের সহিত সক্রিয় কার্যে প্রত্যাবর্তন করেন এবং স্বেচ্ছায় লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদ ত্যাগ করে মেজরের পদে রাইফেল কোম্পানীর পরিচালক রূপে বাস্তব জ্ঞান লাভ করার জন্য চতুর্দশ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বিখ্যাত নবম ব্যাটালিয়নে যোগদান করেন।
ব্যাটালিয়নের অধিনায়করূপে লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদে পুণঃ উন্নীত হওয়ার পুর্বে তিনি ছয় মাস কোম্পানী কমান্ডার ও চার মাস সেকেন্ড ইন কমান্ড পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। পরবতী পর্যায়ে তিনি ১০৫ নম্বর ব্রিগেড ট্রেনিং টিমের ভারপ্রাপ্ত অফিসাররূপে একটি কোম্পানী হতে ব্রিগেড গ্রুপ পর্যন্ত সেনাদলকে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল শিক্ষাদানে ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা ও পরিচালনায় খ্যাতি লাভ করেন। এ গুরুদায়িত্ব সম্পাদন করে তিনি তাঁর ব্যাটালিয়ান ৯/১৪ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের অধিনায়করূপে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পুণঃ উন্নীত হন এবং ব্যাটালিয়নের যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে উন্নত প্রণালীর শিক্ষা দান করেন।
১৯৫১ সালের জরুরী অবস্থার সময় তাঁর অধিনায়কত্বে এ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পাঞ্জাব সীমান্তে নিজেদের চাইতে বহু বেশী ভারতীয় সেনাবাহিনীর দৃঢ় মোকাবেলায় নিয়োজিত হয়। সেই সময় তাঁর ব্যাটালিয়ন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিদর্শিত ও প্রশংসিত হয়। পল্টনের অধিনায়কত্বে তাঁর দক্ষতা সম্বন্ধে অনুকুল রিপোর্টের পর ওসমানীকে ১৯৫১ সালে তাঁর চাকুরী জীবনে প্রথমবারের মত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি করা হয়। প্রথমে তিনি মাত্র তিন বৎসর বয়স্ক ফাস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়কত্ব করেন। এ সময় খুলনায় পুলিশ ও আর্মির মধ্যে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতেই তিনি এর তাৎক্ষণিক কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের রাজশাহী বিভাগের বাৎসরিক প্রশাসনিক রিপোর্টে এ বিষয়ের প্রশংসনীয় উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের পরিচালনার ভার গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সেন্টারের স্থায়ী নিবাসে রেজিমেন্ট স্থানান্তরিত করেন।
চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রণী। ১৯৫৩ সালে ১০৭ নম্বর ব্রিগেডে স্থায়ী কমান্ডারের অনুপস্থিতিতে তিনি চারমাস কাল ব্যাপী অস্থায়ী ভাবে ব্রিগেড কামান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি জেনারেল হেডকোয়ার্টারের আইন কোর্স সমাপ্ত করেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পরবর্তী এক বছর তিনি ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ডার। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতীক ব্যাঘ্র হওয়ায় রেজিমেন্টাল সেন্টারের কম্যাডেন্টকে ‘পাপা টাইগার’ বা ব্যাঘ্রপিতা বলা হতো। এছাড়া তিনি চট্রগ্রাম সেনানিবাসের প্রতিষ্ঠাতা ওসমানী ১৯৫১ হতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ঢাকা, চট্রগ্রাম, যশোর ও খুলনাসহ এ অঞ্চলের সেনানিবাস সমূহের স্টেশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীকালে ১৯৫৫ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস এর অতিরিক্ত কামান্ড্যাণ্ট হিসেবে পূর্ব বাংলা সরকারের অধীনে তাঁকে বহাল করা হয়। এই পদে থাকাকালে ১৯৫৫ সালের পুলিশ ধর্মঘটে ঢাকাস্থ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি স্থিরবুদ্ধি ও দক্ষতার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় ই, পি, আর এ অবাঙালিদের নিয়োগ তিনি বন্ধ করেন ও প্রথমবারের মত পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের ই,পি,আর এ নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া সে সময় ঢাকার সংঘটিত পুলিশ বিদ্রোহ তিনি বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার সাথে দমন করেন। পূর্ব পাকিস্তানে নিযুক্ত থাকাকালে তিনি চট্রগ্রাম সেনানিবাসের গোড়াপত্তন করেন। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জোর প্রবক্তা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে বহু বাধা বিঘœ মোকাবেলা করে নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রাণ হয়ে এবং আপ্রাণ চেষ্টা করে ওসমানী যেসব বিষয়ে কৃতকার্য হন তা হচ্ছে, বঙ্গ সন্তান দ্বারা গঠিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বৈশিষ্টপুর্ণ ঐতিহ্য এবং রেজিমেন্টের সর্বশ্রেণির অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যে সম্মিলিত জীবনী শক্তি গঠন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শ্রেণীগঠন (বাঙালি সৈনিক দ্বারা) ভাঙ্গার উচ্চপর্যায়ের পাঁচবারের অপচেষ্টার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ করে মাত্র দু’টি ব্যাটেলিয়ান থেকে ছয়টি ব্যাটেলিয়ানে উন্নীত করান সেনাবাহিনীতে বাঙালির সংখ্যা শতকরা ২ থেকে শতকরা ১০ ভাগের অধিক এবং বাঙালিদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যানুপাতে জুনিয়র কমিশন অফিসার পদ সহ সর্বস্তরে বাঙালি সৈনিকদের জন্য পদ সংরক্ষণ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত বাংলা গান “চল চল চল” মার্চ সঙ্গীতরূপে সরকারী অনুমোদন, পাকিস্তানের সামরিক বাদ্যযন্ত্রে সরকারীভাবে “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা” ও “গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গা মাটির পথ” সহ বাংলা গানের প্রচলন এবং ব্রতচারী (বাঙালি লোকনৃত্য) নৃত্যের পাকিস্তানে পুণর্জীবন এবং ব্রতচারী নৃত্যের বাংল গীতি ও বাদ্যযন্ত্রসহ বাঙ্গালি সৈনিক দ্বারা ব্রতচারী নৃত্যের প্রবর্তন তাঁর অন্যতম কীর্তি। অধীনস্থ এস সি ওÑদের দৈনন্দিন প্রতিবেদন বাংলা ভাষায় প্রদানের জন্য তিনি আদেশ জারি করেন।
১৯৫৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ওসমানীকে পাকিস্তানের সামরিক সদর দফতরে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস এর অস্থায়ী নিয়োগ থেকে ফিরে এসে তিনি জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-১ পদে যোগদান করেন এবং এর অল্প দিন পরেই জেনারেল হেড কোয়াটার্স এর জেনারেল স্টাফ-এ ১৯৫৬ সালের মে মাসে মিলেটারী অপারেশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর অর্থাৎ দেশ রক্ষার যুদ্ধ সম্পর্কীয় কার্য পরিচালনার মহাপরিচালকের দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫৬ সালের ১৪ মে মাসে ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্ণেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং দেশ রক্ষা পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের সংযোজন কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বহু সিনিয়র অফিসারকে ডিঙ্গিয়ে কর্ণেল পদে উন্নীত হন।
পরবর্তীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি সেণ্টো (সেন্ট্রাল ট্রিটি অর্গানাইজেশন) এবং সিয়াটো (সাউথ ইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশন) এ পাকিস্তানের অংশ গ্রহণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের দেশ রক্ষার পরিকল্পনায় নিয়োজিত হন এবং আন্তর্জাতিক সামরিক ও পরিকল্পনা বৈঠকে বিদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর সামরিক জ্ঞান ও দক্ষতা এবং সেই সঙ্গে সামরিক পর্যায়ে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনমনীয় মনোভাব সদস্য রাষ্ট্রের সামরিক সর্বাধিনায়কদের প্রশংসা অর্জন করেন। একবার সেন্টোর এক সদস্য রাষ্ট্রের চীফ অব স্টাফ (সামরিক বাহিনীর প্রধান) একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সমস্যা বিবেচনার জন্য গঠিত কমিটিতে ওসমাীকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করতে অনুরোধ করেছিলেন। পাকিস্তান এয়ার ডিফেন্স কমিটিরও তিনি সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন যুক্ত সামরিক অনুষ্ঠানে যোগদান করা ছাড়াও তিনি সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়াটার্সে দু’টি কমিটির সভাপতিত্ব ও পরিচালনা করেন। কিছুকালের জন্য তিনি অস্থায়ী ব্রিগেডিয়ারের পদে ডাইরেক্টর অফ মিলিটারী অপারেশন অর্থাৎ যুদ্ধ সম্বন্ধীয় কার্য ও পরিকল্পনার পরিচালক ছিলেন। এর পর দীর্ঘ ১০ বছর পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রমোশনই হয়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্ণেল পদে কর্মরত থাকাকালীন ওসমানী একজন স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
জেনারেল ওসমানী আইয়ূব খানের একজন ঘোর সমালোচক ছিলেন। এজন্য যে আইয়ূব খান গণতন্ত্রকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছিলেন এবং এই কু-কাজে তিনি গোটা সামরিক বাহিনীকে নির্বিচারে ব্যবহার করেছিলেন। আইয়ূব খান তাঁকে ভাল চোখে দেখতেন না, তাই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার মত শিক্ষিত নিষ্ঠাবান অফিসার পাকিস্তান সেনাবাহিনেিত কর্ণেল র‌্যাংকের উপরে উঠতে পারেননি। পরে অবশ্য ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি তাঁর যোগ্যতার যথোপযুক্ত প্রমাণ দিয়েছিলেন।

(লেখক : সহকারী কীপার, ওসমানী জাদুঘর, সিলেট।)

Print Friendly, PDF & Email