জিয়াউর বলেছেন Our great national leader - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

জিয়াউর বলেছেন Our great national leader

গণমাধ্যমকর্মী : বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন করে তোলা দরকার। খুব দরকার। তিনি কিন্তু ঠিক এখনকার শাসকদের মতো ছিলেন না। শেখ মুজিবুর রহমান আরেকজন হবেন না। কখোনই হয়তো না। একজন মেজর জিয়াউর রহমানও কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে Our great national leader বলেছেন। এটা কেন বলেছেন তিনি, এটি বিএনপিকেও বুঝতে হবে। মেজর জিয়া ‘বঙ্গবন্ধু আর জয় বাংলা’ বলেই যুদ্ধ করেছেন। ৭১ এর ঐক্যটি অন্তত সকলের স্বীকার করা উচিত।

আর আওয়ামী লীগ, মানে আপনারা মানুন অথবা না মানুন, বিএনপির পেছনে তাদের সমর্থনে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠি কিন্তু আছে। দলটির প্রবীণ অনেক নেতাই আওয়ামী লীগ করতেন। তারা এখন মুখে বলুক চাই না বলুক, মনে মনে কিন্তু ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু’ এটি না মানার কোনো উপায় নেই। আমার সেটাই মনে হয়। ঠিক এই মুহুর্তে ঐ জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্মও অন্তত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভাবছে। নূন্যতম মুক্তবুদ্ধি যাদের আছে, যারা বুদ্ধির মুক্তিতে বিশ্বাস করে – তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন না অন্তত।

নিজ দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একজন সেক্টর কমান্ডার। তবুও তাকে নিয়ে অসত্য এবং অযৌক্তিক রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া হয়। এগুলোই কিন্তু এই নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে নিতে বাধা দেয়। এটি অনেকটা ‘ইচ্ছা প্রতিহিংসা’। আমাকে আপনি একথা বলেছেন আমিও আপনাকে ওমনটিই জবাব দেব। অনেকটাই এমন হয়তো। তাহলে কেনো এসব বক্তব্য জিইয়ে রাখা? এভাবে জিয়াউর রহমানকে যতটা না ছোট করা যায় তারচেয়ে বরং দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অযথাই বঙ্গবন্ধু থেকে বিমুখ হতে বাধ্য করা হয়।

আর আওয়ামী লীগ যে পথে হাঁটবে বিএনপিও কি সেই পথেই হাঁটবে? বিএনপি নেতারা কি ভাববেন বিষয়টি? আওয়ামী লীগ এমন আচরণ করলে আপনারাও কি সেটাই করবেন। আপনাদের নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তো মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকেই নেতা মেনেছিলেন। আপনাদের তাহলে অসুবিধা কোথায়?

২১ বছর তো এই দেশে বঙ্গবন্ধু শব্দটি উচ্চারণ হতে দেয়া হয় নি। বঙ্গবন্ধুকে কি বাঙালির মন থেকে মুছে ফেলা গেছে, নাকি যাবে?

কোনও এককেই কি বঙ্গবন্ধু, জিয়ার সমান। জিয়াউর রহমানের আমলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। সেখানে তিনি নিজেও নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সমান দাবি করেন নি। কারণ বঙ্গবন্ধুর প্রতি তিনি নিজেও আসক্ত ছিলেন। তবে এখনো কেনো এই বিতর্ক?

মেজর জিয়াউর রহমান তো On behalf of our great national leader Bangabandhu – এটি বলেই শুরু করেছেন। অস্বীকার করতে পারবেন বিএনপি নেতারা? সুযোগ কি আছে?

একইসঙ্গে, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তিনি নিজেও বঙ্গবন্ধুকেই নেতা মানতেন। তাহলে তাকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে কি দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বদলে দেয়া যাবে, বুঝি না আমি।

তবে একটি বিষয় আমি দেখি সেটি হলো জিয়াউর রহমানের সেই ভাষনটি কোনো দলই পরিপূর্ণ প্রচার করে না। কেনো করে না, সেটা জানি না। তবে নিজেদের উদ্যোগেই আমাদের উচিত ওই পূর্ণ ভাষনটি শোনা। এতে করে নিজেরাই বুঝতে পারবো কার কোথায় কতটা অবদান। আমার মনে হয় এটি আসলে একটি কৃত্রিম বিরোধ। নতুন প্রজন্মের কাছে খুব বেশীদিন টিকবে না।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমাদের একটি জায়গায় এক হতে হবে। এবং এও অবশ্যই বলতে হবে আমাদের স্বাধীনতার পেছনে জাতীয় নেতাদের অবদান বঙ্গবন্ধুই স্বীকার করে গেছেন। আওয়ামী লীগকেও এটা মনে রাখতে হবে। অন্যের অবদানকে বঙ্গবন্ধুই মূল্যায়ন করে গেছেন।

শেষ। আর বলতে ইচ্ছা করছে না। হয়তো কোন পক্ষ আমার এই দৃষ্টিভঙ্গির চরম বিপরীত অবস্থানে নিজেকে রাখবেন। রাখতে পারেন। হয়তো এখনকার আওয়ামী লীগ, বর্তমান বিএনপি- দুই দলেরই চক্ষুশূল হতে পারে একথা গুলি, হোক না। কী যায় আসে তাতে? সত্য তো সত্যই।

কিন্তু এটা মনে রাখতেই হবে বাঙালির নেতা যেমন কোন একটি দলের বা কারো একার হতে পারে না। তেমনি বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতাকে যারা সুকৌশলে শুধু মাত্র রাজনীতির নষ্ট কারণে মানেন না, তাদেরও রাজনৈতিক ইস্যু বদলানোর সময় হয়েছে।

সবশেষ হলো, এই যে বিরোধ জিইয়ে রাখা রাজনীতি, এর আড়ালে অতি ভয়ংকর আরেকটি পক্ষ এখন সৃষ্টি হয়েছে। ধান্দা আর সুবিধাবাদী চরিত্রকে সামনে রেখে তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি অতি স্তুতি করে। না তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না তারা বাংলাদেশকে মানে। টিস্যুবক্স থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি দিয়ে কেক বানিয়ে কাটা। কতভাবেই যে তারা অসম্মান করছেন সেটি দেখারও যেনো কেউ নেই। এসব বলতে গিয়ে, সত্য এবং সঠিক পথ দেখাতে গিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের’ পক্ষের আসল মানুষগুলিকেও প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধোবিরোধী আখ্যা দেয়া হয়েছে। নিরবে নিভৃতে তারা দুরে সরেছে আর চাটুকর স্তুতিগাতকরা ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। আর এই পক্ষটিকেই আরো বেশী ধুরন্দর মনে হয় আমার।

শুভ জন্মদিন প্রিয় নেতা। শুভ জন্মদিন। আপনার এই প্রিয় জাতির বড় দুর্দিন আজ। নিশ্চয়ই এমন সমস্যার সমাধান আপনার জীবনে আপনাকেও করতে হয়েছিল। আপনার সেই সব সমাধান থেকেই হয়তো আমরা এগিয়ে যাবো।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Print Friendly, PDF & Email