সংরক্ষণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর 'পৈতৃক বাড়ি' - Jamuna.News
ব্রেকিং নিউজ

সংরক্ষণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ‘পৈতৃক বাড়ি’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর আদি পৈতৃক বাড়ি পুরোনো কাঠামোতে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে বাড়ির দেয়াল থেকে পলেস্তারা সরিয়ে নতুন করে পুরোনো আদলে পলেস্তারা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই এ বাড়িতে দেখতে ভীড় করছেন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা।

জানা গেছে, ৩৬০ বছর আগে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের (বর্তমানে জেলা) অজপাড়া গাঁ টুঙ্গিপাড়ায় বসতি স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধুর পূর্ব পুরুষেরা। পরে এ বাড়ি নির্মাণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্বপুরুষ জমিদার শেখ কুদরতউল্লা। সেগুন কাঠের তৈরি বাড়িতে অত্যাধুনিক কারু কাজের ১২টি পিলার রয়েছে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। বতর্মান সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পাশের বাড়িতে বেড়ে ওঠেন তিনি। শৈশব আর কৈশর কেটেছে এ বাড়িতেই। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুনের খুবই আদরের ছেলে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তারা আদর করে ডাকতেন খোকা নামে। সব আদরই পেয়েছেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী এ বাড়ি। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকে এই বাড়ি। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বাড়ির সংস্কার করা হয়। ৮ বছর আগে জরাজীর্ণ এ বাড়ির আবারো সংস্কার করা হলে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের নভেম্বের থেকে চুন, সুরকী, চিটাগুড়ের সঙ্গে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে শুরু হয় সংস্কার কাজ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উপপরিচালক আমিরুজ্জামান পলাশ ও সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন।

এদিকে, গত ৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু পূর্ব পুরুষের আদী আবাসস্থলের প্রাচীন ভবন সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজসহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর কর্তৃক ২০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সংস্কার ও সংরক্ষণ কজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। এসময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: হান্নান মিয়া, উপ-পরিচালক মো: আমিরুজ্জামান পলাশ, সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এ বাড়ি দেখতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা। তবে পৈত্রিক বাড়ি যেভাবে সংস্কার করা হয়েছে তা দেখে যেন তৃপ্ত হতে পারছেন না। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করতে আসা দর্শনার্থীদের কোথাও যেন একটু ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। সংস্কারের মাধ্যমে পৈত্রিক বাড়ি পুরানো আদলে ফিরিয়ে আনলে নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, প্রায় ৮ বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়ির সংস্কার করে। এতে বাড়ির পুরোনো আদলে বেশ পরিবর্তন আসে। পরে বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রকৌশলীরা টুঙ্গিপাড়া এসে এ বাড়ির পুরোনো ছবি ও ভবনের নির্মানকৌশল দেখে পুরোনো আদলে ফিরিয়ে দিতে একাধিক নকশা প্রণয়ন করেন। এগুলো পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী ওই নকশার আদলে বাড়িটি সংস্কার করার অনুমতি দেন। সে মোতাবেক বাড়িটি পুরোনো আদলে ফিরিয়ে আনার নমুনা কাজ চলছে। এ নমুনা আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেটি দেখে অনুমোদন দিলেই চূড়ান্ত কাজ করা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শিশুকাল থেকে বেড়ে ওঠা যে সব জায়গা রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে আদি রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে একবার বন্ধুবন্ধুর আদি বাড়ী সংস্কার করা হলেও তা আঞ্চলিক আইন মেনে করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর আদি বাড়ি মূল জায়গাতে যেমন ছিল সেই জায়গাতেই ফিরে নেয়ার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। সংস্কৃতিক মন্ত্রাণালয় শুধু জাতির পিতার বেড়ে ওঠার জায়গাটুকুই সংরক্ষণ করবে।

Print Friendly, PDF & Email