ব্রেকিং নিউজ

লোকসানই দিচ্ছে পাবনার চিনি কল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, পাবনা : পাবনা সুগার মিল ১৯৯৬ সালে উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। প্রতি বছর আখের চাষ ও চিনির উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় মিলটি ভবিষ্যতে পরিচালনায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা।

মিল কর্তৃপক্ষের দাবি- পর্যাপ্ত আখ চাষ ও উৎপাদন না হওয়ায় এই অবস্থা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে আখ চাষিদের অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণেই মিলের এই করুন দশায় পরিণত হয়েছে। তবে কারণ যেটাই হোক, সমস্যা নিরশনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রাষ্ট্রয়াত্ব এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে এই মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে মিলটি উৎপাদনে যায়। শুরু থেকে মিলটিতে বছরে কমপক্ষে দেড় লাখ মেট্টিক টন আখ মাড়াই করে ১৫ হাজার মেট্টিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ২৩ তম মাড়াই মওসুমে এসেও মিলটি কাঙ্খিত উৎপাদন করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমি মিল জোনের আওতায় আখ চাষের কথা থাকলেও প্রতি বছরই কমছে আখ চাষের জমি। ফলে আখের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাহিদা অনুপাতে মিলে আখের সরবরাহ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর মিল জোনে সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। যা থেকে ৮৫ হাজার মেট্টিক টন এর বেশি আখের সরবরাহ পাওয়া সম্ভব নয়। চলতি মওসুমে মিল কর্তৃপক্ষ ৮৫ হাজার মেট্টিক টন আখ মাড়াই করে মাত্র সাড়ে ৬ হাজার মেট্টিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে মাড়াই কার্যক্রম শুরু করেছে। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী আখ সরবরাহ পেলে আগামি ২ মাস এই মিল সক্রিয় থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক মওসুমে কমপক্ষে ১০০ দিন মিল চালু রেখে আখ মাড়াই করতে পারলে চাহিদা মোতাবেক চিনি পাওয়া সম্ভব। এতে লোকসানের বোঝা কমে আসবে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় গত কয়েক মওসুমে ৪০ থেকে ৬০ দিনের মাথায় গিয়েই মিল বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের পাল্লা ভারি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মিলটিতে ৫৭৫ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই এ বছরের মাড়াই কার্যক্রম শুরু করেছে। আখ চাষ বৃদ্ধি করে চিনির উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া লোকসানের এ বোঝা কমানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন মিল কর্তৃপক্ষ।

একাধিক আখচাষির সাথে আলাপকালে তারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে মিল থেকে আখের মূল্য সময় মতো না পাওয়া, আখ চাষের কৃষকদের প্রণোদনা বা পর্যাপ্ত সহযোগিতা না করা, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আখ চাষিদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করাসহ নানা অনিয়মের কারণে আখ চাষিরা মিলে আখ সরবরাহ করে সীমাহীন লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আখের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। বেশি লাভের আশায় আখ চাষিরা আখের জমিতে আখের পরিবর্তে বিভিন্ন সবজীর আবাদে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে আখের উৎপাদন গত কয়েক বছরে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান, আখ চাষে পর্যাপ্ত সহযোগিতা এবং আখের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে মিল জোনে আখের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আখ চাষিরা। সমস্যা সমাধানে মিল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন কৃষকরা।

পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সেলিম বলেন, শুধুমাত্র আখ চাষ বৃদ্ধি ও চিনি উৎপাদন বাড়িয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য চিনির পাশাপাশি বিকল্প পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। দ্রুত সরকারি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email