ব্রেকিং নিউজ

কাসেম সোলাইমানি: একুশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ সমরবিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিআইএ ও মোশাদের সব সময় তিনি ছিলেন হিটলিস্টে। এরপরেও তার একক নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে ইরান। বলা হচ্ছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস ফোর্স’ এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির কথা। যিনি শুক্রবার ভোরে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী। কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে ভালোবেসে ইরানের মানুষ ডাকেন হাজি কাসেম বলে। তাকে বলা হতো একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সমরবিদ।

সোলাইমানি আইআরজিসি নামে পরিচিত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন কমান্ডার। তবে ইরানের যে কোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে ছিল তার ক্ষমতা। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ‘কুদস ফোর্স’ নামে একটি বাহিনী তিনি গড়ে তোলেন। এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে এমন এক স্পেশাল ইউনিট যার প্রধান কর্মক্ষেত্রই ছিল দেশের বাইরে। এ ফোর্সের কর্মকাণ্ড কী তা ইরানের ৯৯ ভাগ মানুষই জানেন না।

কাসেম সোলাইমানি শুধু জবাবদিহি করতেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর কাছে। এ ‘ফোর্স’-এর সঙ্গে কাজ করছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ‘ফাতেমিয়ুন’ আর ‘জাইনাবিয়ুন’ নামের মিলিশিয়া গ্রুপ এবং ইয়েমেনের হুতিরা। এর বাইরে কত কত যোদ্ধা দল এ ফোর্স গঠন করেছে তা একমাত্র কাসেম সোলাইমানিই জানতেন। শুধু কাসেম সোলাইমানির কারণে ইরানের সামরিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই রয়েছে।

আরবের সৌদদের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ইরানের যে ছদ্মযুদ্ধ চলছে, তার প্রধান স্থপতি এ কাসেম সোলাইমানি। সেই সঙ্গে ইরাকে আইএসকে পরাজিত করার মূল কারিগরও তিনি। এই যে সিরিয়ায় এত রক্ত ঝরেছে তবুও বাসার আল আসাদের শরীরে আঁচড় কাটতে দেননি তিনি। সিরিয়া নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়ার পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহরও প্রধান অভিভাবক কাসেম সোলাইমানি। ইসরায়েলের এত বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এখন। যার নেপথ্যের মূল কারিগর হাজি কাসেম।

এই যে এমন ক্ষুরধার ক্ষমতাবান ব্যক্তি তিনি অথচ তার জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুরতে পছন্দ করতেন তিনি। প্রায় সময় সাধারণ একটা জ্যাকেট পরা অবস্থায় তালে দেখা যেতো। এছাড়া আয়াতুল্লাহ খামেনী ছাড়া কারও সঙ্গে তেমন মিশতেন না।

জানা যায়, তার সামরিক প্রশিক্ষণের মেয়াদ মাত্র কয়েক সপ্তাহের। এরপরও সামরিক দক্ষতায় তাকে ইরানের জাতীয় বীরে পরিণত করে। গত বছর সোলাইমানিকে ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদক দেয়া হয়। বিপ্লব-উত্তর ইরানে এ খেতাব তিনিই প্রথম পেয়েছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email