ব্রেকিং নিউজ

যেভাবে আপনি অধঃপতনের দিকে যাচ্ছেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : জীবন আজ আটকে গেছে ছোট ছোট চিপাচাপা ইট পাথরের গলির ভেতর। খোলা মাঠে ছোটা হয়না বহুদিন। খোলা আকাশের নিচে গা ঘামিয়ে দৌড়ে এসে বসে জিরানোর সুযোগ মেলেনা। ক্যাবল টিভিতে এখন আর টম আর জেরির দুষ্টুমি দেখান না সিটি ক্যাবল মালিকরা। কতো মানুষ আজ মারা গেলো। কত মেয়ে আজ ধর্ষণ হলো, কোন নেতার নাতি আজ কী করলো এইসব দেখতে আর ভালো লাগেনা টিভিতে। এই শহরের বড়বড় দালান ভেদে করে আসে না চাঁদের আলো। চাঁদ মামার সঙ্গে বলা হয় না মনের কথা।

স্বাভাবিকভাবে দেখতে গেলে মনে হতে পারে আপনি ভালোই আছেন। তবে একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন তো- আপনি কি সত্যিই সুখী জীবন যাপন করেছেন।

প্রতিদিনের এই একঘেঁয়ে জীবন নিশ্চই আর ভালো লাগছে না? কিন্তু জানেন কী, এই জীবন ব্যবস্থা আপনাকে ধীরে ধীরে অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আসুন জেনে নেই।

১. আপনি মনে করেন যে, পৃথিবীতে এমন কোন বিষয় নেই যা আপনাকে অবাক করে দিতে পারে। এমনকি আপনি কোন সংবাদ শোনার পর ভ্রু কুঁচকিয়ে বিস্ময়ের প্রতিক্রিয়া জানান। এভাবে ধীরে ধীরে আপনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এটা ভালো কিছু নয়। এটি আপনার অধঃপতনের লক্ষণ।

২. আপনি নিজের প্রতি যত্ন নিতে পারেন না। গত মাসে শেষ বারের মতো আপনি বাড়ির আঙিনা পরিস্কার করেছিলেন এমন লক্ষণ দেখেই বুঝে নিতে পারেন আপনার জীবন ভালো ভাবে কাটছে না। আর আপনি সেটিই মেনে নিয়ে সব কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে আপনার মাথা থেকে জগাখিচুরি চিন্তা দূর করবে।

৩. চাকরি ক্ষেত্রে আপনাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। কার্যদিবস মাত্র শুরু হয়েছে এবং আপনি ইতোমধ্যেই সময় গণনা করছেন। অফিসের কাজ শেষ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। আপনার চাকরির প্রতি ঘৃনা জন্মানোর কিছু পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

৪. আপনার বিরক্তিকর ভূমিকা, বিরাগপূর্ণ সহকর্মীদের পছন্দ করেন না। শহরের এক মাথা থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যাতায়াত করতে আপনি পছন্দ করেন না। আপনি যদি আপনার পছন্দের কারণ বুঝতে পারেন তাহলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা আপনার পক্ষে সহজ হবে।

৫. যোগাযোগ রক্ষায় প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত স্থানের প্রয়োজন হয়। তবে যদি একেবারে কাউকে দেখতে বা শুনতে চান না, বন্ধু এবং আত্মীয়দের এড়িয়ে চলেন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্রাউজ করার জন্য ‘অজ্ঞাত’ মোডে যান, তাহলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

৬. সামান্য বিষয়ে যদি আপনি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন বা রেগে যাচ্ছেন, তার মানে এই আপনি সহজেই আপনার মেজাজ হারিয়ে ফেলেছেন এবং কান্না করা থেকে শুরু করে প্রচণ্ড ক্রোধে কিছু করছেন বা ভাঙছেন।

৭. আপনার অভ্যাসের কারণে আপনি হয়তো মদ, সিগারেট, অতিভোজন বা মধ্যরাতে ব্রাউজিং করার মতো খারাপ অভ্যাসের সাহায্য নিচ্ছেন। কিন্তু এগুলো আপনার জীবনে সমস্যা সমাধানে কাজে দিবে না, শুধু চেহারায় পরিবর্তন আনবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে নেশা কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না।

৮. আপনি মনে করেন যে, পুরানো স্মৃতির মধ্যে থাকা ভাল এবং পুরানো স্মৃতিগুলো মনে করতে থাকেন। অথবা বিপরীতে, আপনি মনে করেন ‘আগামীকাল ভাল হবে’ এবং আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এই ‘একটু’ সপ্তাহ, মাস এবং এমনকি বছর কেটে যাওয়ার পরও আর শেষ হয় না। বছর ধরে চলতে থাকে।

৯. কাজ কর্ম থেকে উদার, আপনার হয়তো কোনখানেই মন নেই খারাপ মেজাজের সঙ্গে ডিল করার জন্য আপনি প্রস্তুত নয়। এখান থেকে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে। রাগে অনেকেই ব্যাগে ঘুসি মারে, অনেকে পার্কে বেড়াতে যায় এবং অনেকে আবার তাদের বেড়ে উঠা শহরে ভ্রমণ করে আধ্যাত্মিক শক্তি পুনরুদ্ধার করে। কিন্তু আপনি কোনোটাই করেন না। এমন হলে বুঝতে হবে আপনি দিন দিন তলানির দিকে যাচ্ছেন।

১০. আপনার মোবাইল ফোনে আসক্তি হলে বুঝতে হবে আপনি হতাশায় ভুগছেন। হতাশা কাটানোর জন্য আপনি সবকিছু বাদ দিয়ে মোবাইলকে বেছে নিয়েছেন। এটা আপনার জন্য ভয়ঙ্কর বিষয় হতে পারে। আপনাকে মনে রাখতে হবে এক ঘণ্টার বেশি মোবাইল ফোনে সময় দেওয়া কোন ভাবেই ঠিক হবে না।

Print Friendly, PDF & Email