ব্রেকিং নিউজ

রোহিঙ্গা ডাকাত ধরতে মরিয়া র‌্যাব

টেকনাফ(কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ে থাকা ভয়ংকর রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম কে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইনশৃংখলা বাহিনী।

গত দুই সপ্তাহ আগে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১৫ ড্রোন দিয়ে পাহাড়ে অভিযান চালানোর পর ৬ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০ টার দিকে এবার হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের (৬ নভেম্বর) বুধবার সকাল ১০টা থেকে টেকনাফ জাদিমুরা শালবাগান ২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে পাহাড়ের সম্ভাব্য স্থানে চক্কর দিয়ে ভয়ংকর রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের আস্তানা সনাক্তের চেষ্টা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৩ মে ভোররাত ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া মুছনী রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ব্যারাকে লুটপাট চালায়। এসময় গুলিতে নিহত হন ব্যারাকের আনসার কমান্ডার মো. আলী হোসেন। এসময় আনসারের ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭০টি গুলি নিয়ে পাহাড়ে আত্মগোপন করে হাকিম ডাকাত। পরদিন হাকিমসহ বাহিনীর ৩৫ সদস্যের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় খুনসহ অস্ত্র লুটের মামলা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাব বিভিন্ন আস্তানায় হানা দিয়ে লুন্ঠিত ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১৫টি গুলিসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু হাকিম ডাকাত রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

টেকনাফের গহীন অরণ্যে হাকিম ডাকাতের একাধিক আস্তানা রয়েছে। টেকনাফের ফকিরামুরা ও উড়নিমুরা নামে পরিচিত গহীন বনের বিশাল এলাকায় গড়ে তুলেছেন আস্তানা। এখানে তার বাহিনীর অন্তত অর্ধশত অস্ত্রধারী ক্যাডারেরও বসতি রয়েছে। হাকিমের কাছে সার্বক্ষণিক থাকে দুটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। থাকে একাধিক দেহরক্ষী। কক্সবাজার ও টেকনাফ শহরের বিভিন্ন স্থানে আছে তার একাধিক সোর্স। পাহাড়ের কোন স্থানে হাকিম কখন অবস্থান করেন তা এখন আর কেউ জানে না। তার আস্তানায় আছে নিজস্ব জেনারেটরও। তার বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংক, সোলার প্যানেল বিদ্যুৎ সরবরাহসহ অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রাখা আছে।

সব মিলিয়ে অরণ্যঘেরা পাহাড়েই এক সুরক্ষিত জঙ্গি আস্তানা গড়ে তুলেছেন তিনি। বছর দুয়েক আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একবার অভিযান চালিয়ে তার আস্তানা থেকে একটি স্যাটেলাইট ফোনসেটও উদ্ধার করেছিল। তবে তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় হত্যা ৭টি, অপহরণ ৬টি, মাদক ২টি, ধর্ষণ ১টি, ডাকাতি ২টি মামলা রয়েছে।

তিনি মিয়ানমারের মংডু এলাকার বরছড়া গ্রামের এক সময়ের ডাকাত সর্দার আবদুল হাকিম ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন জঙ্গী নেতা। মিয়ানমারের রাখাইনের রোহিঙ্গা রাজনৈতিক সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন’তে (আরএসও) যোগ দিয়ে একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে শুধু সীমান্ত এলাকার মানুষই নয়, পুরো টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের হাকিমের নাম শুনলেই আতংকে ওঠেন। প্রায় দুই যুগ ধরে এই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন হাকিম। বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অনেকেই তার নিয়ন্ত্রণে। যাদের দিয়ে অপরাধ কর্মকান্ডে হাকিম গ্রুপের নাম পাওয়া যায়।

পুরো এলাকাজুড়ে তার আছে বেতনভুক্ত সোর্স, ফলে হাকিমসহ অন্যরা বছরের পর বছর আছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সার্বক্ষণিক তার পাহারায় থাকে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি। টেকনাফে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ক্যাম্প লুট সহ একের পর ঘটনার জন্মদিয়ে সে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের কাছেও পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে তার আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে সীমান্তে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ইয়াবা ও মানব পাচা।

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভয়ংকর আবদুল হাকিম ডাকাতের বেড়ে উঠা গরু ব্যবসার মাধ্যমে। মিয়ানমার থেকে গরুর চালান নিয়ে আসতো বাংলাদেশে। পরে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ও অস্ত্র কারবারে। এক সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে গড়ে তোলে ডাকাত বাহিনী। ডাকাতি, খুন, অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধে ভয়ংকর হয়ে উঠে আবদুল হাকিম। সে আরএসও’র সাথেও জড়িত। এছাড়াও তার ইউটিউবে তার দেয়া বক্তব্যই প্রমাণ করে সে কত ভয়ংকর। সর্বশেষ টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী এলাকায় দুটি স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে পুনরায় আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে র‌্যাব তাকে ধরার জন্য একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। এই ভয়ংকর অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে

Print Friendly, PDF & Email