ব্রেকিং নিউজ

ভারতে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক, দেশে বাজার পড়ে যাচ্ছে

ফিরোজা রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা : ভারতে পেঁয়াজের দাম কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার কারনে দাম পড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভারতের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে চাপ দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে নতুন মুড়ি পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিগগির দাম কমে যাবে।

দাম কমায় বাংলাদেশের বাজারে স্বস্তি নেমে এসেছে। খাতুনগঞ্জের আমদানীকারকরা জানান, ভারত সরকার শিগগির পেঁয়াজ রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এমন আভাস মিলেছে। পাইকারি বাজারে ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৫ টাকায় নেমেছে।
আগামী এক সপ্তাহে মূল্য আরও কমে যাওয়ার আশা আছে।

জানা গেছে, এবছর ভারতে প্রচুর পেয়াজ উৎপাদন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির বড় পাইকারি বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দর নেমেছে সাড়ে ১৬ রুপিতে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২১ টাকার কিছু বেশি। নতুন এ দর এক মাস আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম। এ কারনে পাইকারি বাজারে ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪৫ টাকায় নেমেছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসলে আগামী সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য আরও কমে যাবে।

এদিকে ঢাকার খুচরা বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫৫-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যারা পেঁয়াজ আমদানি করে গুদামজাত করেছিলেন তারাও দ্রুত বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন।

বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক খবরে বলা হয়, লাসালগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা দাম কমে যাওয়ায় রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া মহা রাষ্ট্রে নির্বাচন হয়ে গেছে। যে কোন সময় সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে বেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। আরও ১০ লাখ টন আমদানি হয়। অন্যদিকে ভারত প্রতি বছর ২ কোটি ১০ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি করে থাকে।
পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক জানান, ভারতে দর কমায় দেশেও পড়ে যাচ্ছে। শ্যামবাজারে দেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের পেঁয়াজই ৪৫-৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তাছাড়া স্থানীয় মুড়ি জাতের পেয়াঁজও বাজারে উঠতে শুরু করেছে। যে কারনে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ পণ্যটির দাম আস্তে আস্তে কমতে পড়ে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email